
Description
মৃত্যুর পর কী ঘটে? মানুষের অস্তিত্ব কি শরীরের মৃত্যুর সঙ্গেই শেষ হয়ে যায়, নাকি তার পরেও অপেক্ষা করে এক বিস্ময়কর অজানা জগৎ? পৃথিবীর পরিচিত জীবন পেরিয়ে আত্মার সেই রহস্যময় যাত্রা, প্রেমের চিরন্তন বন্ধন এবং জন্ম-মৃত্যুর অন্তহীন চক্রকে কেন্দ্র করে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেছেন তাঁর অনন্য উপন্যাস দেবযান। কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে যতীন ও পুষ্প—শৈশবের পরিচিত দুই প্রাণ, যাদের সম্পর্ক সময় ও জীবনের সীমাকে অতিক্রম করে এক গভীর বন্ধনে পরিণত হয়। পৃথিবীর জীবনে তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ও অপূর্ণতা রয়ে যায়, মৃত্যুর পরের জগতেও তার রেশ থেকে যায়। কিন্তু দেবযান কেবল দুই মানুষের প্রেমের গল্প নয়; তাদের যাত্রার মধ্য দিয়ে পাঠক প্রবেশ করে এমন এক জগতে, যেখানে পৃথিবীর পরিচিত নিয়ম ধীরে ধীরে বদলে যায়। মৃত্যুর পর যতীন যে জগতের মুখোমুখি হয়, সেখানে স্বর্গ, পৃথিবী ও নরকের প্রচলিত ধারণা নতুন এক দৃষ্টিতে দেখা দেয়। আত্মার গতিপথ, কর্মের ফল, পুনর্জন্ম, মানুষের চেতনা এবং ঈশ্বরের সঙ্গে জীবনের সম্পর্ক—এসব প্রশ্ন কাহিনির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ গভীর হয়ে ওঠে। এক জগত থেকে আরেক জগতে যাত্রার মধ্য দিয়ে চরিত্রগুলো শুধু নতুন স্থান আবিষ্কার করে না; তারা নিজেদের অস্তিত্ব ও জীবনের অর্থ সম্পর্কেও নতুন উপলব্ধির দিকে এগিয়ে যায়। বিভূতিভূষণ উপনিষদীয় চিন্তা ও গীতার আত্মার অমরত্বের ধারণাকে আশ্রয় করে মৃত্যুর পরের জীবনকে কল্পনার এক বিশাল পরিসরে রূপ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই কল্পজগত নিছক অলৌকিকতার প্রদর্শন নয়। বরং এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—মানুষ আসলে কে? শরীরের বাইরে তার অস্তিত্বের অর্থ কী? ভালোবাসা কি মৃত্যুর সঙ্গে শেষ হয়ে যায়? আর জীবনের কর্ম ও অনুভূতিগুলো কি সত্যিই একদিন সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়? দেবযান-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখানেই—এটি পাঠককে শুধু একটি গল্প শোনায় না, বরং তাকে নিজের অস্তিত্ব, মৃত্যু এবং জীবনের অর্থ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে। পৃথিবীর সৌন্দর্য, মানুষের ভালোবাসা এবং আত্মার দীর্ঘ যাত্রা একে অপরের সঙ্গে মিশে গিয়ে তৈরি করে এক বিস্ময়কর মহাজাগতিক আখ্যান। মৃত্যু যদি শেষ না হয়, তবে তার পরের পথ কোথায় নিয়ে যায়?—সেই অজানা পথের নামই দেবযান।
Ratings & Reviews
No reviews yet.
Log in to leave a review.