
Description
অজানা পৃথিবীর হাতছানি, নতুন জীবনের স্বপ্ন আর হঠাৎ নেমে আসা যুদ্ধের বিভীষিকা—এই তিনের টানাপোড়েনে গড়ে উঠেছে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোমাঞ্চকর কিশোর উপন্যাস মরণের ডঙ্কা বাজে। তরুণ পাঠকদের জন্য লেখা হলেও যুদ্ধ, মানবতা ও জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে উপন্যাসটির ভাবনা যে কোনো বয়সের পাঠককেই ভাবিয়ে তুলতে পারে। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে দুই বাঙালি তরুণ—বিমল ও সুরেশ্বর। কর্মসংস্থানের আশায় তারা রেঙ্গুন হয়ে পাড়ি জমায় সিঙ্গাপুরের পথে। তাদের সামনে তখন নতুন জীবন, নতুন কাজ এবং অজানা ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই যাত্রা তাদের নিয়ে যায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার দিকে। সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর তারা জড়িয়ে পড়ে চীন-জাপান যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহে এবং একসময় সাংহাইয়ের যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিবেশেও পৌঁছে যায়। এরপর শুরু হয় তাদের সত্যিকারের অভিযান। চারদিকে যুদ্ধের প্রস্তুতি, সামরিক তৎপরতা, বোমারু বিমানের আক্রমণ এবং মৃত্যুর আতঙ্ক—পরিচিত জীবনের নিরাপদ সীমা থেকে বহু দূরে এসে দুই তরুণকে প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হতে হয় বিপদ ও অনিশ্চয়তার। যে বিদেশযাত্রা শুরু হয়েছিল জীবিকা ও ভবিষ্যতের সন্ধানে, সেটিই ধীরে ধীরে পরিণত হয় জীবন-মৃত্যুর এক রোমাঞ্চকর অভিযানে। তবে মরণের ডঙ্কা বাজে কেবল যুদ্ধ ও অ্যাডভেঞ্চারের গল্প নয়। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও মানুষের প্রতি মানুষের সহমর্মিতা, সাহস, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার যে পরিচয় ফুটে ওঠে, সেটিই গল্পটিকে আরও গভীর করে তোলে। মৃত্যুভয়ের মধ্যেও কিছু মানুষ নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভুলে অন্যের পাশে দাঁড়ায়—মানবিকতার এই দিকটি উপন্যাসের অন্যতম শক্তি। সমকালীন যুদ্ধকে পটভূমি করে লেখা এই উপন্যাস বাংলা কিশোর সাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী সংযোজন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের অস্থির আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং চীন-জাপান যুদ্ধের পটভূমিকে বিভূতিভূষণ তরুণ পাঠকের উপযোগী রোমাঞ্চকর কাহিনির সঙ্গে মিলিয়ে দিয়েছেন। উপন্যাসটি প্রথমে মৌচাক পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় এবং পরে ১৯৪০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। মরণের ডঙ্কা বাজে তাই একদিকে যেমন অ্যাডভেঞ্চার ও উত্তেজনায় ভরপুর, অন্যদিকে তেমনই এটি তরুণ মনকে সাহস, বন্ধুত্ব এবং মানবিকতার মূল্য সম্পর্কে ভাবতে শেখায়। যেখানে যুদ্ধের ডঙ্কা মৃত্যুর বার্তা নিয়ে আসে, সেখানেই মানুষের সাহস ও মানবিকতা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি।
Ratings & Reviews
No reviews yet.
Log in to leave a review.